Sunday, 29 January 2017

যাতনায় যাচি

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)
যাতনায় যাচি
--- ভূপেন্দ্র দাস।

গর্ব খর্ব পরিতাপে!
অসার সংসারে;
নিয়ত কাঙাল তুমি,
বাহিরে-ভিতরে!
নিয়ত ভিখারি ভাব,
দ্বারে জেগে থাকে।
কেন? হেন গোপ্য,
তুমি করেছ নিজেকে!
প্রচ্ছদ কবচে সদা,
রাখো নিজ ঢাকি;
সত্য গোপন কেন?
কা'কে দিতে ফাঁকি!
মনের চেহারা মুখে',
রক্ত মাখা ছবি!
কী লুকালে হিয়া কূলে;
আমি তা'ই ভাবি!
একদা নিশীতে হেরি,
বাতায়ন পথে;
আধারে স্থাপিত শির,
নীরবে কাঁদিতে!
কেনো কাঁদ? বলো শুনি,
কী যাতনা শোক?
চেয়েছ কী? নাহি পাও!
শূন্য বোধ বুক!
বুঝি না'ই, যাচি তাই;
হেন কোন ধন?
কদাপি কাহারো হয়,
একান্ত আপন। 

----------<+>-----------

Monday, 23 January 2017

শাসন, সোহাগে

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)
শাসন, সোহাগে
--- ভূপেন্দ্র দাস।

ভারি তোমার রূপের বাহার!
মানি ইহা সত্য কথা।
রূপের সাথে রঙ মিশিয়ে,
চিবুতে চাও যুবক মাথা!
যুবক যাবে অধঃপাতে!
তুমি সুখে রইবে, যথা--;
কেমন করে নিরন্তরে;
ভাবছ তুমি এমন কথা!
রূপের জ্বালায় দেহ মিলায়;
যুবক জীবন জ্বলবে যথা!
তা'তে তুমি রেহাই পাবে!
জের জ্বলুনি যায়কি বৃথা?
বক-বকানি অনেক হলো!
শুনে মন ক্ষুণ্ন হ'বি।
অল্প বলি, উল্টো কথা;
শোনার তরে ধৈর্যে র'বি।
রমণী তুই রমার জাতি;
নারায়ণের সঙ্গ নিবি।
দুখী-জনে, সুখ দানে,
শান্ত-মনে আশিস দিবি।
প্রীতি-রসে, অবশেষে,
ভবের সবের পূজা পাবি।
হৃষ্ট চিতে পুষ্ট দিতে,
কালের গতি ভুলে যাবি।
নারী--যে, তুই মায়ের জাতি।
তোর চরণে প্রণাম করি!
অভিশাপ দিসনে মোরে।
তিক্ত-কথার দুঃখ স্মরি!
এত কথার পরে যদি,
না রাখিস মা আমার কথা!
তোর সাথে রয় আড়ি আমার,
তুই খা'বি, তোর মায়ের মাথা।
----------<+>----------

Sunday, 22 January 2017

নাচব দুখে

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)
নাচব দুখে
--- ভূপেন্দ্র দাস।

ভালোবাসা অপরাধের;
এই কথাটি কোথায় পেলে?
ভালোবাসায় অমর জীবন;
এমন কত প্রমাণ মিলে।
তবে, এমন বিরাগ ভাজন!
ভালোবাসায়; কেন হলে?
অমর প্রেমের অবাধ টানে,
লাইলী সাথে মজনু মিলে।
শীরী এবং ফরহাদে প্রেম;
জেনে নিলেম, গীতির ছলে;
অমর প্রেমের এ'সব কথা;
সব কিছু কি যায় বিফলে?
তবে উচিত ঘৃণা করা;
সবাই, মনের কুতূহলে!
ভরে যাবে সভ্য সমাজ;
ঘৃণার গরম বাতাস বলে!
সুখে মোরা আত্ম-হারা!
নাচব দুখে, বাহু তোলে!
----------<+>----------

প্রীতির স্বপন

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)
প্রীতির স্বপন
--- ভূপেন্দ্র দাস।

ঋষভবতী কূলের কথা,
মুগ্ধ মনে ভাবি!
রমণীয় রূপ মাধুরী,
দর্শে যদি কবি;
শ্মশান ছেড়ে, কাশে হেরে,
পিনাক পাণির ছবি।
দূর্বা, তৃণের মাদুর পাতা,
মকমলেরই মতো।
হেথায় সেথায় কলকা করা,
বলব সে' আর কত!
প্রীতিলতার লীলা ভূমি',
বলব কি, সে' কথা!
প্রাতঃকালে সেথায় গেলে;
শিশিরধারী তৃণের পাতা;
যতন করে, সকলেরে;
ধোয়ায় চরণ। যথা--,
নিবাসখানি তারই কাছে,
পল্লী বটে, পটের মতো।
মাঠ চিরে পা'র পথটি গেছে,
শিরে কাটা সিঁথির মতো।
সেথায় চরে চোখে পড়ে,
প্রীতির কুটিরখানি;
চারখানি চাল, বাঁশের বেড়া,
বেনা-বনের ছানি।
কুটিরখানি বন-দেবীর,
মনোহারী পুরী;
বাঁশের মাচায় মাদুর পাতা,
শয্যা শোভা, ভারি!
দিনের শেষে ক্লান্তি নাশে,
শয়ন করে তা'তে;
ঘুমের ঘোরে লীলা করে,
স্বপন চোখের পাতে।
দিনের খেলায় মিটেনি সাধ,
মিটায় রাতের বেলা!
মন-খুশিতে, মালা গাঁথে,
প্রসূন চয়ন খেলা।
ভুঁইচাপা, জুঁই চয়ন করে;
সেই বনফুল হেলা!
বৃথা গেল, ফুলের চয়ন;
হয়নি, সে' ফুল তোলা!
যে ফুল দোলে, মাধব গলে,
দোলায় পুলক দোলা।
ঘুমের ঘোরে, স্বপন জুড়ে,
হচ্ছে, সে' ফুল তোলা।
----------<+>----------

সংস্কার মূলে

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)
সংস্কার মূলে
--- ভূপেন্দ্র দাস।

শিশু যখন ধূলে খেলে,
মাতা-পিতার স্বপন চোখে;
বড় হয়ে, ফুলের মতো
প্রতিষ্ঠিত, সমাজ বুকে।
সে'দিন যবে সমাগত,
রূঢ় বাস্তব মূর্তিমান;
সুত কাজে লোক-লাজে,
দিল দরিয়ায় ব্যথার বান!
"এমন হলো কেমন করে?"
প্রশ্ন, পরস্পরের কাছে;
পুত্র নিকট করত প্রকট,
যা'তে কেবল লাভ আছে।
সুপথ ছেড়ে কুপথ ধরে,
আত্ম-স্বার্থ সুখের টানে;
ভেসে চলে কুতূহলে,
মন্দ মনে দ্বন্দ্ব বানে।
ছিল যবে কোমল মতি,
কুসংস্কার মুক্ত;
সে'দিন, মাতা-পিতা, হ'লে---
সুশিক্ষা ভাব ভুক্ত।
মাতা-পিতা যদি মনের
আশা বশে রাখত;
দুখে, সুখে হাসি মুখে---
'তুষ্ট সদা থাকত।
ত্যাগী নিজের প্রয়োজনে,
সকল অপ-কর্ম;
সুত মনে সঙ্গোপনে,
বাঁধত বাসা ধর্ম।
এ'সব কথা আমার নহে,
হও যদি কেউ সন্দিহান;
মহাভারত খোলে দেখো,
বলে' 'কৃষ্ণ ভগবান।
----------<+>---------

তাজ সাহিত্য কুটিরে

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)

তাজ সাহিত্য কুটিরে
--- ভূপেন্দ্র দাস।

মায়ের নিকট মামার বাড়ির
গল্প বলার কথা;
মুরুব্বিদের মর্ম বাণী,
বাহুল্য বাক যথা--
মামার বাড়ি নিতান্তই,
মায়ের বাপের বাড়ি।
যার সাথে মা'র, নিবিড় বাঁধন,
বলছি কথা তারি।
ফেস বুকেতে গ্রুপ গুলোতে,
সবার সেরা "তাজ"।
"শানু" দিদি, নিরবধি,
করে যেথায় কাজ।
দিদি, "তাজের" উৎপাদিকা,
শীতল প্রীতির ছায়া।
চিপ এডিটর রুশনী দাদুর,
নাই মোটেও মায়া।
কড়া ভাষায় করে কেবল,
লেখাতে বিচার।
ছন্দ, মাত্রা, তালে মিলে,
কম হলে, মন ভার।
কিন্তু যদি কোনও লেখা,
নিখুঁত ভালো হয়।
হর্ষে পরাণ নাচে দাদুর,
কতই কিছু কয়।
"তাজ কুটিরে" লেখক যেন
ভালো লেখক হয়।
হেন আশে পরামর্শ,
রুশনী দাদু দেয়।
লেখায় কিছু ত্রুটি হলে,
রুশনী দাদু মোর।
তৎক্ষণাৎই দেখিয়ে দেয়,
লেখক করে দূর।
নবীন, প্রবীণ সব লেখকে,
"তাজ কুটিরে" ডাকি।
লেখা শেখার অনেক সুযোগ
"তাজের" মাঝে দেখি।
আছে, দাদুর ভালোবাসা,
দিদির মধুর প্রীতি।
"তাজ কুটিরে" লেখক হলে,
হয়তো র'বে স্মৃতি।
গঙ্গাজলে গঙ্গা পূজা,
এ'যাবৎ কাল করছি।
ভক্তি ভজা অতি সোজা,
এই সাহসে লড়ছি।
মরণ বরণ জয় মানসে,
এই সুরে গান ধরছি।
----------<+>----------

লজ্জা কেন

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)
লজ্জা কেন
--- ভূপেন্দ্র দাস

লজ্জার গভীরে গেলে 
পাই, সঙ্কোচতা; 
আরেকটু গভীর হলে,
নাই উদারতা!
আরেকটু গভীরে কয়,
কবির কবিতা;
অর্চিতে, চর্চিয়া পাই,
বৈশিষ্ট্যে হীনতা।
প্রবচনে সবে জানে,
গুণী' মুখে শোনা
"কয়লার ময়লা কভু,
ধোইলেও যায়না!"
হেন জন মন্দ মন;
র'বে অনুখন।
তাহারে উদার কিসে,
করিবে এখন?
কুমতি, সুমতি লাভ,
করেনা কখন।
নিজেকে রক্ষিতে তা'র,
লজ্জা প্রয়োজন।
----------<+>------

Friday, 13 January 2017

মৃত্যুঞ্জয়ী

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)
মৃত্যুঞ্জয়ী
--- ভূপেন্দ্র দাস।

লতা, সুত, সুতা কোলে,
জীবন সুখে চলে।
অসার এ'সব সুসার নহে;
তলায় সময় তলে।
জীবন তরী, সাজবে যদি,
রঙধনু-রঙ সাজে।
অনন্ত কাল, ভেসে র'বে;
লাগবে সবার কাজে।
প্রয়াস করা, উচিত সবের,
সাজবে এমন সাজে।
অন্তরে যার, ভৈরবী সুর,
এমন তরো বাজে।
লোকান্তরে, অন্ত নহে;
অমর নিজের কাজে।
ধরা থেকে, যাবে সুখে;
রইবে হৃদয় মাঝে।
----------<+>----------


সুখের ভেলা

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)

সুখের ভেলা
--- ভূপেন্দ্র দাস।


পড়ায় বসি', দেখি শশি;
নাই পড়াতে মন!
নিষেধ কিসে, ভাবি বসে;
বেড়াতে এখন।
মা কেবল কয়, ঘোরা বারণ;
পড়া প্রয়োজন।
আমার সুখে, মলিন মুখে!
চায় কী, মায়ের মন?
"পড়তে বসে দেখলে শশী, 
কেমনে হবে পড়া?"
মা তাই বকে, মনের ঝোঁকে;
কারণ শশী হেরা।
শশি মোরে বলে হেসে;
হের তারার মেলা।
তুমি যদি আস প্রিয়;
খেলি প্রণয় খেলা।
সুখ লালসায়, মন যেতে চায়,
পড়ায় করি হেলা।
পড়ায় বসি' দেখি শশি';
ডুব সাঁতারের খেলা।
মেঘের কোলে, কুতূহলে;
ভাসায় সুখের ভেলা।
----------<+>----------

সংযমী

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)
সংযমী
--- ভূপেন্দ্র দাস।

প্রিয় জনে, পাওয়ার আশা,
পোষণ করে মন।
নিজের তরে, যতন করে;
মধুর প্রেম ধন।
বুঝে না সে, সোজা কথা;
দুঃখ, সুখের সার।
সন্তুষ্টিতে হৃষ্ট হৃদয়;
দুঃখ নাহি তাঁর।
চাওয়া, পাওয়া হয় না যখন,
দুঃখ তখন হয়।
পাওয়া পরে হারিয়ে গেলে,
দুঃখ টি কম নয়।
প্রিয়ার লাগি, প্রেমিক ত্যাগী;
বিয়োগ ব্যথা সয়।
দুখের কোলে, সুখের ছলে;
প্রেম জীবিত রয়।
প্রেমিক হৃদয় কল্পনাতে,
প্রেমের কথা কয়।
দুখ নিয়া; সুখ দান করে সে,
দুঃখ করে জয়।
হেন মনে, শুদ্ধ জ্ঞানে,
প্রেম করিতে হয়।
----------<+>----------


সুরেশ কবি (স্মরণে)

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)

সুরেশ কবি
(স্মরণে)
--- ভূপেন্দ্র দাস।

সুরেশ বাবু সভা কবি;
মুখই অস্ত্র, কলম নয়!
সভায় যেয়ে, গানে গেয়ে,
যত শাস্ত্র কথা কয়।
সে'সব, যদি লিখে যেত,
নবীন, কবির সুর পেত।
সৃষ্টি তাহার, কৃষ্টি রূপে,
জন-মনে, আসন নিত।
ভাব পিয়াসী শ্রোতা গণে,
বাঞ্ছা করে, সুরেশ গীতি।
মাধুর্য রস, কবিত্ব ময়,
সুরেশ কবির গানের রীতি।
রইল-না তা', কইল যাহা,
সুরেশ কবি, সভার মাঝে।
গাইছে গীতি, শুদ্ধ মতি,
বৃদ্ধ ভাবে, গায়ক সাজে;
হয়না সুরেশ কবির গীতি,
শূন্যতা বোধ হিয়ার মাঝে।
----------<+>----------

প্রেম রীতি

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)
প্রেম রীতি
--- ভূপেন্দ্র দাস।

স্বার্থ বিহীন অলকা' ধন,
প্রেমের করি স্তুতি।
প্রেম করেনা পাওয়ার আশা;
প্রিয়জনের প্রতি।
বিলায় কেবল ভালোবাসা।
দেওয়াই প্রেমের রীতি।
চায়না কিছুই কদাপিও,
বিলায় কেবল প্রীতি!
সে' গুণ বলে, কাল কবলে,
রয় প্রেমিকের স্মৃতি।
প্রেম কাহিনীর চিরন্তনী,
মধুর অনুভূতি।
----------<+>----------

Wednesday, 11 January 2017

প্রিয় চাঁদ

কবিতা রস বিতান (ক,র,বি,)
প্রিয় চাঁদ
--- ভূপেন্দ্র দাস।

আকাশের চাঁদ,
যদি জাগে সাদ;
ধরাতে আসিও।
বাতায়ন খোলা,
সারা নিশি বেলা;
ঘরে পশিও।
আদরে, আঁচল---
পাতিয়া দিব;
তা'তে বসিও।
ভাবিওনা মনে,
তোষিব কেমনে?
দীনা যদিও।
শোন চিতচোর,
যাহা আছে মোর,
সকলই নিও।
হে চাঁদ আমার,
বল এক-বার;
" পরাণ প্রিয়া,
সুখে থাকিও।"
আরো বল যদি,
নভের নিধি;
" আসিব একদা,
মনে রাখিও।"
---------<+>---------